সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “গ্রাম আদালত কার্যক্রম” সম্পর্কে গণসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩ পর্যায় প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক (উপসচিব) শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গ্রাম আদালতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন গ্রাম আদালতের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মনোরঞ্জন সূত্র ধর।
সভায় বলা হয়, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। গ্রাম আদালত অনধিক ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই।
একজন চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের—আবেদনকারী ও প্রতিবাদী—মনোনীত দুজন করে মোট পাঁচজন সদস্য নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের অন্য কোনো সদস্য গ্রাম আদালতে দায়িত্ব পালন করেন। নারী সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রাম আদালতে প্যানেল সদস্য হিসেবে নারীর অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
সভায় আরও বলা হয়, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ বা বিবাদ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা, যা ন্যায্য বিচার লাভে সহায়তা করে। গ্রাম আদালতে সবাই অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ও সহজে প্রতিকার পেতে পারেন। আবেদনপত্রের ফি ছাড়া গ্রাম আদালতে অন্য কোনো খরচ নেই। একই সঙ্গে উচ্চতর আদালতে মামলার জট কমাতেও গ্রাম আদালত সহায়তা করে।
সভায় জানানো হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৯টি উপজেলার ১০১টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৯৭২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫২টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ বা বিবাদ নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা, যা ন্যায্য বিচার লাভে সহায়তা করে। গ্রাম আদালতে সবাই অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ও সহজে প্রতিকার পেয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে। এজন্য এর প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে। গ্রাম আদালতে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়, তা জনগণকে জানাতে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় বিলবোর্ড টানাতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠকের আয়োজন করে গ্রাম আদালতের সুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
সভায় গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মো. মীরাজুল ইসলাম, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Posted ১:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah